এই প্রথম সংসার করলাম বিয়ের পর : তিশা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। বর্তমানে সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য প্রদীপ ঘোষের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ নামে ছবির শুটিং করছেন তিনি।

এ বিষয়ে তিশা জানান, সাড়ে সাত মাসের মতো আমি কাজ থেকে দূরে ছিলাম। নিজের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে কাজ করার সাহস পাইনি। কারণ আমার মা, শ্বশুর, স্বামী, ননদ, দেবর সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকি।

সবদিক ভেবেচিন্তেই বিরতি নিয়েছিলাম। ঘরে থেকেও যে কাজ না করে বসে ছিলাম তা কিন্তু নয়। সবাইকে বলেছি, আমি মনে হয় বিয়ের পর এই প্রথম সংসার করলাম। হাহাহাহা…!

হাসি থামিয়ে অভিনেত্রী বললেন, আসলে বিয়ের পরদিন থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। দেশের বাইরে গেলেও ফেস্টিভ্যাল বা বিভিন্ন কাজে যাওয়া হয়। কিন্তু একজন গৃহিণী সংসারের কাজটা এই সাড়ে সাতমাসে আমি করেছি।

ঘর গোছানো, দেয়াল রঙ করাসহ ঘরে অনেক এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করেছি। নিজেকে নতুন করে চেনার চেষ্টা করেছি। ছোট ছোট হাতের কাজ, কুটির শিল্পের কাজ করেছি। আমার ছোট বারান্দায় করলা, টমেটো গাছ, বিভিন্ন শাক লাগিয়েছি। সেগুলো রান্না করেছি। এটা গৃহিণী হিসেবে আমার চমৎকার অভিজ্ঞতা।

নিজের স্বামীর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিশা বলেন, অভিনেতা অভিনেত্রীর জীবনে যদি তার সঙ্গী সাপোর্টিভ হয় তাহলে তার জীবনযাপন এবং কাজের জায়গাটা খুব সহজ হয়ে যায়। আল্লাহর কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করি,

আমি জন্মেছি এমন এক পরিবারে যারা সবসময়ে আমাকে সববিষয়ে সাপোর্ট করেছেন। এমন পরিবারে বিয়ে করেছি এবং এমন একজন মানুষের সঙ্গে সংসার করছি তারাও আমাকে সবসময় সাপোর্ট দিচ্ছেন।

আমি যখনই কোনো স্বপ্নের চরিত্র পাই, তখনই আমি যতটুকু অ্যাফোর্ড দেই; লেখালিখি, এডিটিং, শুটিংয়ের শত ব্যস্ততার মধ্যেও সরয়ার আমার জন্য সময় বের করে রাখে। যদিও সে আমার চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। অবশ্যই সে আমাকে কঠিন চরিত্রগুলো ধারণ করতে সাহায্য করে।

উদাহরন দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত এই অভিনেত্রী বললেন, প্রথম যখন প্রীতিলতার প্রজেক্ট আমার হাতে, আমি যখন তার সঙ্গে শেয়ার করি; প্রথমে আমাকে সরয়ার বলে, স্ক্রিপ্ট পড়েছো? উপন্যাসটা পড়েছো? তখন আমি দুটোর উত্তরই ‘হ্যাঁ’ বলি। তখন সে আমাকে নিজে নিজে প্রস্তুতি নিতে বলে। এও বলে, যতটুকু সাহায্য দরকার আমি করবো। প্রতিটা ভালো কাজেই এই সাপোর্ট সে আমাকে দিয়েছে। সোজা লাইনে চলতে চলতে কোথাও যদি একটু গিট্টু লেগে যায় তখনই আমি তার শরণাপন্ন হই। তার সাপোর্টে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আবার সে তার কাজে যদি কোথাও গিট্টু অনুভব করে আমিও চেষ্টা করি সাহায্য করার। আমি যখন কোনো ভালো প্রজেক্টে কাজ করি, সেও আমার মতই খুশি হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*