ডিম পাড়া পাহাড়: একেকটি ডিম পাড়ে ৩০ বছরে

মু’রগি আগে না ডিম আগে পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে এখনো চলছে এই বিতর্ক। তবে হাঁস মু’রগি ছাড়াও অনেক প্রাণী ডি’মের মাধ্যমে বংশবি’স্তার করে। এটি খুব পুরনো একটি তথ্য।

তবে কো’নো পাহাড়ও যে ডিম পাড়ে, একথা জানতেন কি? হ্যাঁ, পা’হাড়ের আঞ্চলিক নাম “চান দান ইয়া”। এর বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় “ডিম পাড়া পাহাড়” বা এগ মাউ’নটেইন।

চী’নে অবস্থান এই পাহাড়টির। এই পাহাড়টি আসলে গানডেং পর্ব’তশ্রেণীর একটি অংশ। অবাক হয়ে অনেকেই ভা’বছেন একটি পা’হাড়ে কী করে ডিম পাওয়া যেতে পারে।

পা’হাড়ের যে অংশে আপনি ডিম পাবেন সেটি লম্বায় ৯ ফুট এবং চওড়ায় প্রায় ৬৫ ফুট। তবে এক একটি ডিম পাড়তে পা’হাড়ের সময় লেগে যায় প্রায় ৩০ বছর।

এরপর ডিম ধীরে ধীরে পরি’ণত হতে হতে পাহাড়ের পাদদেশে এসে জমা হয়। চীনের গুউঝু প্র’দেশের কিয়ানান বুয়ী ও মিয়াও অঞ্চল জুড়ে এই পাহাড় রয়েছে। তবে ডি’মগুলো সত্যিকারের নয়। পাথরের! এগুলো ডি’মের মতো গোল ও মসৃণ হওয়ায় একে ডিম ভেবে অ’নেকেই ভুল করেন।

এগুলো আসলে পাথর যা এমন আ’কার ধারণ করেছে আবহাওয়ার পরি’বর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। তবে পাহাড় কি করে ডিম পা’ড়তে পারে সে প্রশ্নের উত্তর এখনো ঠিক’মতো খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই প’র্বতশ্রেণী পাললিক শিলা দিয়ে গ’ঠিত হলেও এই অংশটি তার ব্য’তিক্রম কারণ এটি গঠিত হয়েছে চু’নাপাথর দিয়ে।

মনে করা হয় যে চু’নাপাথর নরম হওয়ায় তা সহজে ক্ষয় হয় এবং সেগুলো ধীরে ধীরে জমা হতে হতে ডি’মের আকার ধারণ করে। তবে এমন ডি’মের মতোই গোল কি করে হতে পারে পাথরগুলো তা ভাবাচ্ছে তাবড় তাবড় বিজ্ঞা’নীদেরও। সেখানে যে চুনা’পাথর রয়েছে তা প্রায় ৫০ কো’টি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল।

তবে সেগুলো এখনও কি করে অ’ক্ষত রয়েছে সেটি একটি প্রাকৃতিক রহস্য। বাড়ির কাছে যে গ্রাম অ’বস্থিত সেখানকার বাসিন্দারা আবার এই পাথরগুলোকে ঈশ্বরের দান বলে মনে করেন। তারা রী’তিমতো পুজো করেন এই পাথরের টুক’রোগুলোকে। এক একটি বাড়িতে একটি করে এমন ডিম দেখতে পাবেন আপনি।

বর্তমানে এখানে ডি’ম ভর্তি পাহাড়ের আকর্ষণে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হওয়ায় ডিম’গুলোকে নাকি চড়া দামে বি’ক্রি করে দেয়া হচ্ছে। কেউ কেউ আবার ডি’মগুলো খসে পড়ার অনেক আগেই তা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*